০১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩

আবারও পেস নির্ভরতা ‘বুমেরাং’ হলো

নিজস্ব প্রতিনিধি

আবারও পেস নির্ভরতা ‘বুমেরাং’ হলো

এটা তো আর মিরপুর শেরে বাংলার ধীরগতির পিচ নয়, যে ১২৭ রানের মামুলি স্কোরও শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট বলে প্রমাণিত হবে। খেলাটা হলো শারজাহতে। এখানে ২০ ওভারের ম্যাচে দেড়শোর নিচে রান করে জেতা কঠিন।

সেই হিসেবে বাংলাদেশ অন্তত ২০ রান কম করেছে। স্কোরটা ১২৭’র বদলে ১৪৭ বা তার আশেপাশে হলে ফল ভিন্ন হতে পারতো। খেলা শেষে অধিনায়ক সাকিবও বললেন, ১০-১৫ রান কম হয়ে গেছে। তাহলে কি হারের সব দায় ব্যাটারদেরই?

যারা খেলা দেখেছেন, তারা বলবেন ভিন্ন কথা। কম পুঁজি নিয়েও বাংলাদেশ জয়ের পথে ভালোভাবেই হাঁটছিল। কিন্তু আরও একবার বুমেরাং হলো তিন পেসার তত্ত্ব। তিন পেসারই শেষের দিকে লাগামহীন বোলিংয়ে ম্যাচটা তুলে দিয়েছেন প্রতিপক্ষের হাতে।

১৪ ওভার শেষে আফগানিস্তানের রান ছিল ৩ উইকেটে মাত্র ৬৫। ৩৬ বলে তখনও দরকার ৬৩ রান। বাংলাদেশের দিকেই হেলে ছিল ম্যাচটি। এমন সময়ে ১৫তম ওভারে তাসকিন আহমেদ দেন ১১ রান। সেই শুরু।

এরপর মোস্তাফিজুর রহমান আর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের দুই ওভারে ম্যাচটাই হাত থেকে ছুটে গেছে বাংলাদেশের। শেষ ২৪ বলে আফগানিস্তানের দরকার ছিল ৪৩। ১৭তম ওভারে এসে মোস্তাফিজ ইব্রাহিম জাদরানের দুই ছক্কা হজম করে বসেন, দেন ১৭ রান। পরের ওভারে সাইফউদ্দিনের অবস্থা আরও খারাপ।

১৮তম ওভারে সাইফউদ্দিনের ৬ ডেলিভারির মধ্যে ৪টিকেই সীমানার বাইরে ফেলেছেন ইব্রাহিম জাদরান। হাঁকিয়েছেন দুটি করে চার আর ছক্কা। ফলে যা একটু আশা ছিল বাংলাদেশের, তা ওই দুই ওভারেই শেষ হয়ে যায়।

আফগানিস্তানের হাতে ৭ উইকেট অক্ষত ছিল। তাই শেষ দিকে হাত খুলে খেলার একটা বড় সুযোগ পেয়েছে তারা- কেউ কেউ এমন যুক্তি দাঁড় করাচ্ছেন। বলছেন-শেষ দিকে পেসার বাদ দিয়ে স্পিনারদের ব্যবহার করলেও লাভ হতো না। স্পিনাররাও মার খেতেন।

হাতে পর্যাপ্ত উইকেট থাকলে ব্যাটাররা ঝুঁকি নিয়ে মারমুখী ব্যাটিং করেন, এমন নজির আছে ভুরি ভুরি। হয়তো আফগানরাও জয়ের নেশায় তা-ই করতো।

তারপরও কথা থেকে যাচ্ছে। এটা তো সত্য, স্লো পিচে স্পিনারদের বিপক্ষে হাত খুলে চার-ছক্কার প্রদর্শনীতে মেতে উঠা এতটা সহজ হতো না। এই ম্যাচে দুই দলের স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং সেই আফসোস বাড়াচ্ছে বাংলাদেশের। একজন বাড়তি স্পিনার থাকলেই হয়তো শেষ দিকে আফগানদের অমন উত্তাল উইলেবাজি ঠেকানো যেতো।

ম্যাচে সাকিবসহ (৪ ওভারে ১/১৩) বাংলাদেশের তিন স্পিনার শেখ মেহেদি হাসান (৪ ওভারে ০/২৬) আর মোসাদ্দেক (২.৩ ওভারে ১/১২) মিলে ১০.৩ ওভারে রান দিয়েছেন মাত্র ৫২।

একজন পেসার কমিয়ে বাড়তি স্পিনার খেলানো হলে হয়তো এই পুঁজি নিয়েও ম্যাচ শেষ ওভার পর্যন্ত টেনে নেয়া যেতো। কিংবা মাহমুদউল্লাহ আর আফিফকে মাঝখানে অন্তত এক ওভার করে ব্যবহার করলে পেসারদের ওপর নির্ভরতা যেতো কমে।

কে জানে, একজন স্পিনার বেশি থাকলে হয়তো ফলটা অন্যরকম হতে পারতো। বাংলাদেশ জিতেও জেতে পারতো। টিম ম্যানেজম্যান্টের সিদ্ধান্ত কি সঠিক ছিল? এই প্রশ্ন উঠতেই পারে।

সাম্প্রতিক সময়ের দল সাজানোর দিকে নজর দিলে দেখা যাবে, সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর থেকে ৩ পেসার নিয়ে খেলার প্রবণতা বাংলাদেশের। একই ঘটনা ঘটেছে জিম্বাবুয়েতেও। ৩ পেসার ফর্মুলা বারবার ‘বুমেরাং’ হচ্ছে। তারপরও পেসারদের ওপর নির্ভর করতে চাইছে টিম ম্যানেজম্যান্ট। আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারের পর কি টনক নড়বে?

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় : ০২:১৩:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩১ অগাস্ট ২০২২
১৬৪ বার পড়া হয়েছে

আবারও পেস নির্ভরতা ‘বুমেরাং’ হলো

আপডেট সময় : ০২:১৩:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩১ অগাস্ট ২০২২

এটা তো আর মিরপুর শেরে বাংলার ধীরগতির পিচ নয়, যে ১২৭ রানের মামুলি স্কোরও শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট বলে প্রমাণিত হবে। খেলাটা হলো শারজাহতে। এখানে ২০ ওভারের ম্যাচে দেড়শোর নিচে রান করে জেতা কঠিন।

সেই হিসেবে বাংলাদেশ অন্তত ২০ রান কম করেছে। স্কোরটা ১২৭’র বদলে ১৪৭ বা তার আশেপাশে হলে ফল ভিন্ন হতে পারতো। খেলা শেষে অধিনায়ক সাকিবও বললেন, ১০-১৫ রান কম হয়ে গেছে। তাহলে কি হারের সব দায় ব্যাটারদেরই?

যারা খেলা দেখেছেন, তারা বলবেন ভিন্ন কথা। কম পুঁজি নিয়েও বাংলাদেশ জয়ের পথে ভালোভাবেই হাঁটছিল। কিন্তু আরও একবার বুমেরাং হলো তিন পেসার তত্ত্ব। তিন পেসারই শেষের দিকে লাগামহীন বোলিংয়ে ম্যাচটা তুলে দিয়েছেন প্রতিপক্ষের হাতে।

১৪ ওভার শেষে আফগানিস্তানের রান ছিল ৩ উইকেটে মাত্র ৬৫। ৩৬ বলে তখনও দরকার ৬৩ রান। বাংলাদেশের দিকেই হেলে ছিল ম্যাচটি। এমন সময়ে ১৫তম ওভারে তাসকিন আহমেদ দেন ১১ রান। সেই শুরু।

এরপর মোস্তাফিজুর রহমান আর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের দুই ওভারে ম্যাচটাই হাত থেকে ছুটে গেছে বাংলাদেশের। শেষ ২৪ বলে আফগানিস্তানের দরকার ছিল ৪৩। ১৭তম ওভারে এসে মোস্তাফিজ ইব্রাহিম জাদরানের দুই ছক্কা হজম করে বসেন, দেন ১৭ রান। পরের ওভারে সাইফউদ্দিনের অবস্থা আরও খারাপ।

১৮তম ওভারে সাইফউদ্দিনের ৬ ডেলিভারির মধ্যে ৪টিকেই সীমানার বাইরে ফেলেছেন ইব্রাহিম জাদরান। হাঁকিয়েছেন দুটি করে চার আর ছক্কা। ফলে যা একটু আশা ছিল বাংলাদেশের, তা ওই দুই ওভারেই শেষ হয়ে যায়।

আফগানিস্তানের হাতে ৭ উইকেট অক্ষত ছিল। তাই শেষ দিকে হাত খুলে খেলার একটা বড় সুযোগ পেয়েছে তারা- কেউ কেউ এমন যুক্তি দাঁড় করাচ্ছেন। বলছেন-শেষ দিকে পেসার বাদ দিয়ে স্পিনারদের ব্যবহার করলেও লাভ হতো না। স্পিনাররাও মার খেতেন।

হাতে পর্যাপ্ত উইকেট থাকলে ব্যাটাররা ঝুঁকি নিয়ে মারমুখী ব্যাটিং করেন, এমন নজির আছে ভুরি ভুরি। হয়তো আফগানরাও জয়ের নেশায় তা-ই করতো।

তারপরও কথা থেকে যাচ্ছে। এটা তো সত্য, স্লো পিচে স্পিনারদের বিপক্ষে হাত খুলে চার-ছক্কার প্রদর্শনীতে মেতে উঠা এতটা সহজ হতো না। এই ম্যাচে দুই দলের স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং সেই আফসোস বাড়াচ্ছে বাংলাদেশের। একজন বাড়তি স্পিনার থাকলেই হয়তো শেষ দিকে আফগানদের অমন উত্তাল উইলেবাজি ঠেকানো যেতো।

ম্যাচে সাকিবসহ (৪ ওভারে ১/১৩) বাংলাদেশের তিন স্পিনার শেখ মেহেদি হাসান (৪ ওভারে ০/২৬) আর মোসাদ্দেক (২.৩ ওভারে ১/১২) মিলে ১০.৩ ওভারে রান দিয়েছেন মাত্র ৫২।

একজন পেসার কমিয়ে বাড়তি স্পিনার খেলানো হলে হয়তো এই পুঁজি নিয়েও ম্যাচ শেষ ওভার পর্যন্ত টেনে নেয়া যেতো। কিংবা মাহমুদউল্লাহ আর আফিফকে মাঝখানে অন্তত এক ওভার করে ব্যবহার করলে পেসারদের ওপর নির্ভরতা যেতো কমে।

কে জানে, একজন স্পিনার বেশি থাকলে হয়তো ফলটা অন্যরকম হতে পারতো। বাংলাদেশ জিতেও জেতে পারতো। টিম ম্যানেজম্যান্টের সিদ্ধান্ত কি সঠিক ছিল? এই প্রশ্ন উঠতেই পারে।

সাম্প্রতিক সময়ের দল সাজানোর দিকে নজর দিলে দেখা যাবে, সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর থেকে ৩ পেসার নিয়ে খেলার প্রবণতা বাংলাদেশের। একই ঘটনা ঘটেছে জিম্বাবুয়েতেও। ৩ পেসার ফর্মুলা বারবার ‘বুমেরাং’ হচ্ছে। তারপরও পেসারদের ওপর নির্ভর করতে চাইছে টিম ম্যানেজম্যান্ট। আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারের পর কি টনক নড়বে?